একটা কেন্দ্র বানাও যেখান থেকে জিহাদ করবে : মাওলানা মাহমুদুল হাসান
জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেছেন, বাবারা তোমাদের হাতে পায়ে ধরি, তোমরা আলেম হও, আলেম হয়ে রাজনীতি করো ৷ জিহাদ করা আগে শিখো, তারপর জিহাদের প্রস্তুতি নেও, একটা কেন্দ্র বানাও যেখান থেকে জিহাদ করবে ৷ এমনি প্রস্তুতি ছাড়া কী করতে পারবা? জিহাদের অধ্যায় পড়ো ভালো করে। আমি সরকারকে বলবো নিরীহ আলেমদের ছেড়ে দিন। কেউ অপরাধী হয়ে থাকলে তার সাথে ইনসাফের বিচার করুন। আপনাদের কাছে অনুরোধ করি, গরীব ছাত্রদের ছেড়ে দিন। এরা কুরআন পড়তো। এবার কুরআন পড়তে পারছেনা ৷ আল্লাহর যাতের উপর বিশ্বাস রাখুন। তাদের মুক্ত করে দিন। আজ (৩০ এপ্রিল) শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী জামিয়া মসজিদে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, দাওয়াত দিলে ইলেম লাগবে। তরিকা লাগবে। এজন্য মাদরাসা বানান। মাদরাসা বানিয়ে তাদের ইলম শিখান। কুরআন শিখান। হাদিস শিখান। তাদের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে শিখান। এভাবে ধারাবাহিকভাবে দাওয়াতের মাধ্যমে, ইলেমের মাধ্যমে সব শ্রেনির মানুষের মাঝে দীনের প্রেরণা যোগান। তারা নিজেরাই তখন আমল করবে। গুনাহ ছাড়বে। এভাবে একদিন আমাদের প্রবলতা আসবে।
তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি জবান ঠিক থাকে তাহলে আবার উম্মতকে আমি সাফায়াত করে জান্নাতে নিয়ে যাব। নবিজি বলেন, আমি জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখি! আমার উম্মতের অধিকাংশই জবানের কারণে জাহান্নামে আছে। তোমরা হাদিসের কথা বলো। কোরআনের কথা বলো। বাবারা তোমাদের পায়ে ধরি, এক হাদিসকে আরেক হাদিসের সাথে জোড়া লাগায়ো না। এক ঘটনাকে আরেক ঘটনার সাথে মিলিয়ে দিও না। স্থান-কাল-পাত্র বুঝে হেকমতের সাথে এগিয়ে যাও। তা না হলে আমাদের এই সুন্দর দেশ কাফের-বেদ্বীনদের ঘেরাওর মধ্যে চলে আসবে। তোমরা আগে ভালো আলেম হও। তারপর মানুষের সামনে কথা বলো। ইদানিং আমার একটি সিদ্ধান্ত বেরিয়েছে। সিদ্ধান্তটি আমার নয়। আমি আলেমদের নিয়ে করেছি। হাসপাতালে মিটিং করে বলেছি, ছাত্ররা তোমরা লেখাপড়া করো। ভালো আলেম হও। তারপর রাজনীতি করো।
এ সময় নিজের ছাত্র জীবনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, দেখো! আমরা এখন দু-চার কথা বলছি তোমাদের সামনে। আমার জীবনে, আমার মনে হইতেছে না, আমি চারজন ছাত্রের সামনে দাঁড়িয়ে কখনো কথা বলেছি। কিন্তু এখন আল্লাহ তায়ালা অনেক মানুষের সামনে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। সারা পৃথিবী এখন অন্যদের দখলে। এটা আমাদের গাফলতি ও উদাসীনতার কারণে। আমাদের অনৈক্যের কারণে। আমাদের প্রতি অনাস্থার কারণে। ভুল ব্যাখ্যার কারণে। একজন ওলি একটা ভালো কথা বলেন। তোমরা সেটার গলদ অর্থ করো। মুরুব্বিদের প্রতি তোমাদের শ্রদ্ধা নেই। ছোটোদের মহাব্বাত নেই। একজন আরেকজনকে উপকার করবো এটা আমাদের মাঝে নেই।