রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গরিব হবো আমরা: জার্মানি

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির ফলে শিগগিরই সংকটে পড়তে যাচ্ছে জার্মানির অর্থনীতি। দেশটির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হেবেক বুধবার এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

বুধবার জার্মানিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল জেডডিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেবেক বলেন, ‘(যুদ্ধের প্রভাবে) আমরা আরও গরিব হবো। একসময় এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে এবং আমাদের এজন্য কোনো মূল্য দিতে হবেনা— এটা চিন্তাও করা যায়না।’

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি। তবে করোনা মহামরির দুই বছর অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো জার্মানিতেও প্রায় স্থবির ছিল অর্থনৈতিক কার্যক্রম। ফলে দেশটিতে দিন দিন প্রকট হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি।

অর্থনীতি পুনরায় সচল করতে চলতি ২০২২ সালের শুরুর দিকে যদিও অধিকাংশ করোনা বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে জার্মানি, কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে রীতিমতো উল্লম্ফন ঘটেছে, গ্যাস বিক্রি হচ্ছে গতবছরের তুলনায় দ্বিগুণ দামে।

জার্মানি এই জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি শিকার উল্লেখ করে হেবেক বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই যুদ্ধের মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে। যদিও এই মূল্য ইউক্রেনের মতো নয়….ইউক্রেনে প্রতিদিন হতাহতের ঘটনা ঘটছে, লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে।’

‘কিন্তু তারপরও আমি বলব, এই যুদ্ধের কারণে আমাদের বেশ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং সেজন্য আমাদের মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।’

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনা নিয়ে জটিলতায় পড়েছে জার্মানি। রুশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে রুবল ছাড়া অন্য কোনো মুদ্রায় বাইরের কোনো দেশের কাছে গ্যাস বিক্রি করবে না রাশিয়া।

তবে রুশ গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা জার্মানি জানিয়েছে, জি৭ চুক্তি অনুযায়ী রুবলে গ্যাস কিনতে পারবে না জার্মানি। কারণ চুক্তিতে বলা আছে, কেবল ইউরো বা ডলারের বিনিময়েই বাইরের দেশ থেকে পণ্য আমাদনি করতে পারবে জি৭ সদস্যরাষ্ট্রসমূহ।

জবাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ শর্তে ইউরোর বিনিময়ে গ্যাস কিনতে পারবে জার্মানি; সেই শর্ত হলো— রাশিয়ার গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহকারী সরকারি কোম্পানি গ্যাজপ্রমের ব্যাংক থেকে সেই ইউরোকে রুবলে রূপান্তর করতে হবে।

বলা বাহুল্য, রাশিয়ার এই প্রস্তাব পছন্দ হয়নি জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজের। তবে তিনি এর বিরোধিতা করে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি।

সূত্র: সিএনএন

Taqwa Travel & Tourism
বিস্তারিত পড়ুন

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!