রাগ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর

মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী বলেছেন, রাগ বা ক্রোধ মানুষের জীবনের একটি মন্দ দিক। মাত্রাতিরিক্ত রাগ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অধিক রাগান্বিত মানুষ বেসামাল হয়ে পড়ে। তখন সে গোনাহ, জুলুম ও যে কোন অপরাধ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম রাগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। আজ (৬ আগষ্ট) শুক্রবার মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী বলেন, পবিত্র কোরআনে নেককার মানুষের গুণাগুণ বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল সব অবস্থায়ই (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) খরচ করে, যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন’। সূরা আল ইমরান : ১৩৪। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এক সাহাবী রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অল্প কথায় কিছু নসীহত করুন। রাসুল সা. বললেন, রাগ বর্জন করো। সাহাবী কয়েকবার বললেন, আরও নসিহত করুন। রাসুল সা. প্রত্যেকবারই বললেন, রাগ বর্জন কর। বোখারি।
তিনি বলেন, রাগ মানুষকে জ্ঞান, বিবেক ও ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। এজন্য রাগ হলে আলেমরা ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এক হাদীসে বলা হয়েছে, ‘যখন তোমাদের কারও রাগ আসে, তখন সে দাঁড়িয়ে থাকলে যেন বসে পড়ে। তাতে যদি রাগ দমে না যায়, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে”। তিরমিজি শরীফ। আবু দাউদ শরীফের একটি হাদীসে আছে, রাসুল সা. বলেছেন, ‘রাগ আসে শয়তানের কাছ থেকে। শয়তান আগুনের তৈরি। আর আগুন নেভাতে পানি লাগে। তাই যখন তোমরা রেগে যাবে, তখন অজু করে নেবে। আর মুসলিম শরীফের এক হাদিসে আছে, রাসুল সা. বলেছেন, যে রাগের সময় নিজেকে সামলে নিতে পারে, সেই প্রকৃত বাহাদুর। অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, রাগের কারণে প্রতিশোধ নেয়ার সক্ষমতা থাকা সত্বেও যে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে কিয়ামতের দিন পুরস্কৃত করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করেন। আমীন।



