অবসরে তালিবুল ইলম ভাইদের জন্য ৬ পরামর্শ

বৈশ্বিক মহামারী মরণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে লকডাউন চলছে। চলমান লকডাউনেরর সময়সীমা বৃদ্ধির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু দেশের চলমান লকডাউনে ৩০ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ভাইরাস প্রতিরোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। বমিলিয়ে কতদিন বন্ধ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনই বলা যায় না। দীর্ঘ এ অবসরে কী করবেন মাদরাসা শিক্ষার্থীরা? এই বিষয়ে আব্দুল হাফিজ তাহসিনুল কুরআন মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মোহাম্মদ আবূ মূসা বলেন, অবসরে শিক্ষার্থীদের জন্য আমি ছয়টি পরামর্শ দিবো।

১. যারা হাফেজে কোরআন তারা বেশি করে কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করবে। আর যারা গাইরে হাফেজ তারাও কোরআন তেলাওয়াত করবে। আর তারা সবাই কুরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি অন্যান্য কিতাবও মুতালায়া করবে।

২. শিক্ষার্থীদের জন্য যেটা আবশ্যক সেটা হল, যে যে ক্লাসে পড়বে সেই ক্লাসের কিতাবের মাবাদিয়াত বা ভূমিকাগুলোতে যে পরিভাষাগুলো রয়েছে। অথবা কিতাবেব শুরুতে যা যা পড়ানো হয় সেগুলো পড়ে নেবে। কেননা তারা যদি এই ভূমিকাগুলো এখনই পড়ে নেয় তাহলে ক্লাস যদি কিছুদিন পরেও শুরু হয়। তবুও পড়াশোনায় তেমন কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। সময়গুলো অপচয় কিংবা নষ্ট হবে না। কেননা মাদরাসাগুলোতে সাধারণত এই সময়ে মাবাদিয়াত বা ভূমিকাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। অতএব তারা যদি এখনই এগুলো মুতালায়া করে নেয় তাহলে শিক্ষকদের জন্যও সুবিধা হবে। আবার ছাত্রদের জন্যও সুবিধা হবে। যেমন উলুমে হাদিস, উসুলে হাদিস, উসূলে ফিকাহ, উসুমে নাহম ইত্যাদি যেগুলো বিষয়ভিত্তিক আলোচনা আছে সেগুলো তারা এখনই মুতালায়া করে নেবে।

৩. যে যে বিষয়ের প্রতি বেশি ঝোক রাখে সে সে বিষয়ে বেশি অধ্যায়ন করবে। অর্থাৎ মোতালায়ার প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করবে।

৪. মাদরাসায় থাকাকালীন সময়ে সে তার বাবা-মা কিংবা এলাকার মুরব্বিদের যথাযথ খেদমত করতে পারে না। সামাজিক কাজে ততটা মনোনিবেশ করতে পারেনা। এখন যেহেতু অবসর সময় আছে, অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের বাবা-মা, এলাকার মুরুব্বি বা সামাজিক অন্যান্য কার্যক্রম এর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে। এতে করে তার সময়টা সুন্দরভাবে কেটে যাবে। আবার এলাকার মানুষের কাছেও তার প্রভাব তৈরি হবে।

৫. ইনাবাত ইলাল্লাহ বা আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। বেশি করে রব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করা, যেন আল্লাহ তায়ালা এ মুসিবত থেকে আমাদের খুব শীঘ্রই মুক্তি দান করেন।

৬. যে যে মাদরাসায় ভর্তি হয়েছে কিংবা ভর্তি হবে সেখানে কোনো তালীমি মুরুব্বির মাধ্যমে নিজেকে পরিচালনা করা। যেকোনো সিদ্ধান্ত তালীমি মুরুব্বি ছাড়া কখনো না নেওয়া।

বিস্তারিত পড়ুন

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!