ভাষা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
ওমর ফারুক ফেরদৌস

পৃথিবীর প্রাণীকুলের মধ্যে মানুষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের ভাষা বা বলতে পারার যোগ্যতা। সুরা আর-রাহমানের শুরুতে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করার নেয়ামতের কথা উল্লেখ করার পরপরই উল্লেখ করেছেন তাকে ভাষা দান করার নেয়ামতের কথা। আল্লাহ বলেন, পরম করুণাময়, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাষা। (সুরা আর-রাহমান: ১-৪)
অর্থাৎ মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। একটি মানবশিশু বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে তার মাতৃভাষায় কথা বলতে শিখে যায়। আলাদা করে তাকে শেখানোর প্রয়োজনও পড়ে না। এটা আল্লাহর নেয়ামত ও তার সৃষ্টিক্ষমতার নিদর্শন।
ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গীর পাশাপাশি মানুষের কণ্ঠস্বরেও বৈচিত্র্য রয়েছে। প্রত্যেককে আল্লাহ স্বতন্ত্র ও পৃথক কণ্ঠস্বর দান করেছেন। একজনের কণ্ঠস্বর আরেকজনের সাথে মেলে না। আমরা যাদের চিনি, তাদের কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারি কে কথা বলছে। পুরুষ, নারী, বালক ও বৃদ্ধের কণ্ঠস্বরও আলাদা আলাদা। আমরা কারো গলা শুনে তার লিঙ্গ ও বয়সও অনুমান করতে পারি। অথচ সবার বাগযন্ত্র তথা জিহবা, ঠোঁট, তালু ও কণ্ঠনালী একই রকম। এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহর সৃষ্টিক্ষমতার নিদর্শন।
এ আয়াতে এক আল্লাহর ইবাদত, বাবা মায়ের সাথে সদাচার, নামাজ আদায় ও জাকাত প্রদানের সাথে যুক্ত করে মানুষের সাথে উত্তম কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের সাথে সুন্দর ভাষায় হাসিমুখে কথা বলো। সুন্দর আচরণ করো। এটাও একজন মুসলমানের দ্বীনি কর্তব্য ও ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো নেক কাজকেই খাটো করে দেখবেন না যদি তা ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত করাও হয়। (সহিহ মুসলিম: ২৬২৬)



